বগুড়ায় বক্ষব্যাধির চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। বগুড়া ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি জেলার রোগীরা চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। কিন্তু রোগীর চাপ বাড়লেও দীর্ঘ দুই দশকে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়েনি। মাত্র ২০টি শয্যা নিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা। একই সঙ্গে রয়েছে চিকিৎসক ও জনবল সংকট। হাসপাতাল চত্বরে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল এবং মাদকসেবনের অভিযোগও রয়েছে।বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকায় হাসপাতালটির অবস্থান। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল ভবনের চারপাশের বড় অংশ অনেকটা অপরিচ্ছন্ন ও জঙ্গলাকীর্ণ। নির্জনতার সুযোগে সেখানে বহিরাগতদের আড্ডা বসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর হাসপাতাল এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এতে চিকিৎসক, নার্স, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। অথচ অনুমোদিত শয্যা মাত্র ২০টি। রোগীর তুলনায় চিকিৎসকও অপ্রতুল। বর্তমানে একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন সিনিয়র মেডিকেল অফিসার দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিতে হচ্ছে।শুধু বগুড়া জেলার রোগী নয়, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার রোগীরাও এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে সীমিত শয্যা ও জনবল দিয়ে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।হাসপাতালের আরেকটি সমস্যা হলো ইনডোর ও আউটডোর সেবা পৃথক স্থানে থাকা। বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের বহির্বিভাগ পরিচালিত হলেও নিশিন্দারায় রয়েছে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিশিন্দারা এলাকায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জন্য ১৯৬০ সালে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজন অনুযায়ী অবকাঠামো ও শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়নি।হাসপাতালের চিকিৎসক সাঞ্জাদা-উল-হক বলেন, শয্যা ও জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে চাপ রয়েছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের মাদকসেবনের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. রুহুল আমিন বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একজন মেডিকেল কর্মকর্তা নিয়মিত সেখানে রোগী দেখবেন।বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, জাতীয় সংসদে বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানানো হয়েছে। শয্যা ও চিকিৎসক বাড়ানো গেলে বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ হবে।
৪২ মিনিট আগে
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ায় বগুড়া সদর আসনের এমপি মো: রেজাউল করিম বাদশাকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন।রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন।বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ আলীর সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত অতিথি মোঃ রেজাউল করিম বাদশা এমপি, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী সেরাজুল ইসলাম,সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম বাবু,বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, বগুড়া জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার,সাবেক প্যানেল মেয়র শ্রী পরিমল চন্দ্র দাস। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি রেজাউল করিম বাদশা এমপি বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দেশের নগর উন্নয়ন, আবাসন, সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ ও গণপূর্ত খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় বগুড়ার উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।তিনি আরো বলেন, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দেন তিনি।অনুষ্ঠানে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
২ ঘন্টা আগে
যেকোনো মূল্যে জাতির প্রত্যাশা বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস বয়ে চলেছে। এ দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ইতিহাসজুড়ে স্বৈরাচারী মনোভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নানাভাবে হরণ করা হয়েছে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত করেছে। এই বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। যেকোনো মূল্যে জাতির প্রত্যাশা বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে হবে।১৫ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’। গণতন্ত্র কেবল সরকার গঠনের কোনো সাময়িক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি। গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকলে একটি সমাজ স্বৈরাচার, শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত থেকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে।তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে। জনগণ ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, সামাজিক সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশে ইনসাফ, সততা এবং মানবিক মূল্যবোধনির্ভর বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের এই বিশেষ দিনে গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জামায়াতে ইসলামী দেশবাসীর নিকট প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে। এই লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী দেশে সমতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিকে আর কোনোভাবেই গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মতো অভিশাপের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনকে সংকীর্ণ দলীয়করণ মুক্ত করতে হবে। জাতিকে ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দখলদারি মুক্ত করতে হবে। শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং সত্যিকারের গণমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে।বৈষম্যমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং ন্যায্য নাগরিক সুবিধা আদায় ও যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করার জন্য দেশের সর্বস্তরের জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
২ ঘন্টা আগে
ভোলার চরফ্যাশন পৌর শহরে আদালত প্রাঙ্গণের পশ্চিম পাশে অবস্থিত পাঁচতলা ভবনের মালিক মো. মিজানুর রহমান নিখোঁজ হয়েছেন। গত রোববার বিকেলে বাসা থেকে বাজারে যাওয়ার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি বলে জানিয়েছে তার পরিবার। এ ঘটনায় অপহরণের আশঙ্কা প্রকাশ করে তাকে উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার স্ত্রী।নিখোঁজ মিজানুর রহমানের স্ত্রী সুলতানা আফরোজ চরফ্যাশন সরকারি টি. ব্যারেট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষিকা।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা আফরোজ জানান, গত রোববার বিকেলে মিজানুর রহমান বাসা থেকে চরফ্যাশন বাজারে যান। সন্ধ্যার পরও তিনি বাসায় না ফেরায় তাকে একাধিকবার ফোন করা হয়। তবে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা বাজারসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। বিষয়টি জানিয়ে চরফ্যাশন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা আফরোজ বলেন, তার স্বামীর সঙ্গে আপন ভাই মনির বেপারী ও আকবর বেপারীর দীর্ঘদিন ধরে পাঁচতলা ভবনের মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরেই তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি দ্রুত তার স্বামীকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
২ ঘন্টা আগে