দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।এর আগে, সবশেষ গত ৮ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০১ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫০ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫০ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন শুরু হচ্ছে আজ থেকে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। এ জন্য কোনো ম্যানুয়াল বা সরাসরি লিখিত আবেদন গ্রহণ করা হবে না। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনলাইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে।গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন নেওয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।জানা গেছে, প্রতিটি পত্রের জন্য পুনর্নিরীক্ষণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। ইংরেজি বা বাংলার মতো দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে অনলাইনে পরিশোধ করা যাবে।ফি পরিশোধ করে আবেদন জমা দেওয়ার পরও কোনো শিক্ষার্থী আরও অতিরিক্ত বিষয়ের জন্য পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে একইভাবে নতুন করে আবেদন করা যাবে। তবে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।তবে ফি পরিশোধের আগে নির্বাচিত বিষয়ে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় বাদ দিয়ে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে। একবার ফি জমা হয়ে গেলে আবেদন করা বিষয়গুলো আর পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে না। এক্ষেত্রে পরিশোধ করা ফিও ফেরত দেওয়া হবে না।যেভাবে আবেদন করতে হবেফল পুনর্নিরীক্ষণ জন্য প্রথমে বোর্ড নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (rescrutiny.eduboardresults.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে। এরপর শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ড্রপডাউন মেনু থেকে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।পরবর্তী ধাপে একটি সক্রিয় মোবাইল ফোন নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণ চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ওই নম্বরেই এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হবে।এরপর স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। যে এক বা একাধিক বিষয়ের খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো টিক চিহ্ন দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করলে পরবর্তী স্ক্রিনে মোট ফির পরিমাণ দেখাবে।নির্ধারিত ফি বিকাশ, নগদ অথবা সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত নিয়ম জানতে আবেদন পোর্টালে থাকা ‘হেল্প’ বাটন ব্যবহার করা যাবে।ফি পরিশোধ সফলভাবে সম্পন্ন হলে পুনরায় আবেদন পোর্টালে প্রবেশ করে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপরই পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছেন।এসএমএসে ফল জানতে যে কোনো মোবাইল নম্বর থেকে ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে বার্তা পাঠাতে হবে। ১৬১৪০ নম্বরে ফল জানতে ‘SSC’ লিখে একটি স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর একটি স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং আরেকটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে পাঠাতে হবে। যেমন, ‘SSC Dha 123456 2026’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। বিগত ১৯ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম পাসের হার।
লিবিয়ার সবচেয়ে বড় জাওয়িয়া তেল শোধনাগারের একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১১ আগস্ট) আগুন লাগার পর দমকলকর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনের (এনওসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্রেগা পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং কোম্পানি জানিয়েছে, আগুনে শোধনাগারের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।এনওসি জানিয়েছে, আগুন লাগা ট্যাংকটিতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার পেট্রল ছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ট্যাংকটি সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি অবস্থা জারি করে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এনওসি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে জাওয়িয়া শহরের আকাশে আগুনের বিশাল শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জাওয়িয়া শোধনাগারটি লিবিয়ার সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার। প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এর। শোধনাগারটি দেশটির দৈনিক ৩ লাখ ব্যারেল উৎপাদনক্ষম শারারা তেলক্ষেত্রের সঙ্গেও যুক্ত।আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা কাজ করলেও শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন সেখানে কর্মরত দুই প্রকৌশলী। অর্থাৎ আগুন লাগার পরও শোধনাগারটির কার্যক্রম চলমান ছিল।এর মাত্র দুই দিন আগে, শনিবার ভোরে শোধনাগারে অপরিশোধিত ন্যাফথা সংরক্ষণের একটি ট্যাংকে ড্রোন হামলা হয়। এতে ট্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ন্যাফথা ছড়িয়ে পড়লেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন কর্মীরা।সূত্র: আরব নিউজ
রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সবশেষ মামলায় জামিন হওয়ায় তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা।সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। পরে বনানী থানার মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। আজ এই মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।এর আগে মোট ৮ মামলায় বিভিন্ন সময় জামিন পান বিচারপতি খায়রুল হক।সবশেষ গত ৩০ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিনের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানায় খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এই আদেশ দেন।১৬ মে এ মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল।এই মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী–সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোয়াইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হন। শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ, র্যাবসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্র–জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন খোয়াইব। তাকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে একে একে নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।সোমবার (১০ আগস্ট) প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ঢাকা আশা করছে, দিল্লি এতে ইতিবাচক সাড়া দেবে। ভারতের শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ স্পষ্ট করে ভারতকে জানিয়েছে। ভারত এটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ওপর বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। ভারত তা করতে দিয়েছে। এ ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হবে না বলে ভারত আশ্বস্ত করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ হেয় প্রতিপন্ন হয় এমন কোনো কিছু ভারত করবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী।এসময় ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাওয়া নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান মন্ত্রী।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ২০২৬ এর নির্বাচনে প্রাণহানি সহিংসতা অন্য নির্বাচন গুলোর চেয়ে কম হয়েছে সত্য কিন্তু এর কৌশলগত ম্যানিপুলেশন নবরূপ লাভ করেছে। নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কার না আনলে নির্বাচনী সহিংসতা ও অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও অভিনব আকারে বাড়বে।সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইপিডি (ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি) ও ‘অধিকার’ এর যৌথ আয়োজনে স্টেকহোল্ডার ডায়লগে তিনি একথা বলেন।ডায়লগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, এনসিপি নেত্রী মুনিরা শারমিন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলিম, অধিকারের ডিরেক্টর নাসিরুদ্দিন এলান, তাসকিন ফাহমিনা, ইপিডি’র প্রকল্প পরিচালক অ্যানাসতাসিয়া এস উইবাওয়াসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররা বক্তব্য রাখেন। মজিবুর রহমান মঞ্জু ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, কারা ক্ষমতায় আসবেন এটা যদি নির্বাচনের আগেই ধারণা তৈরি হয়ে যায় তাহলে নির্বাচন কতৃপক্ষ ও মাঠ প্রশাসন কোনভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবেনা। নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত যে যেখানে পেরেছে প্রভাব বিস্তার করেছে বলে তিনি মনে করেন। নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন ও সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন না করলে আগামীতেও যে দলের যেখানে প্রভাব সেখানে ১৫ থেকে ২০ ভাগ শান্তিপূর্ণ ম্যানিপুলেশন প্রভাবশালীদের পক্ষে হবে। ক্যাম্পাসে সরকারী ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাস ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিরোধ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষের চুড়ান্ত পরিণতি অতীতে কখনো ভাল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবেনা। তিনি এ ব্যাপারে সমাধানমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী।সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন।মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন।এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জন এবং ছাত্রী ৩৩ হাজার ১৫১ জন।সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়।ফলাফল দেখবেন যেভাবেশিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনলাইনে দেখতে পারবে। ফলাফল পাওয়া যাবে eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে।এ ছাড়া যেকোনো মোবাইল নম্বর থেকে ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল জানা যাবে।এসএমএসে SSC <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> ২০২৬ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।উদাহরণ: SSC DHA 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১১ আগস্ট থেকেফলাফলে সংক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত খাতা পুনর্নিরীক্ষণের (চ্যালেঞ্জ) আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে।এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশকোনো শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা পত্রিকা অফিসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনা করে জানা যায়, এবার দেশের ৭৪১টি কেন্দ্রে মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন।এ বছর দাখিল পরীক্ষা থেকে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ১৭৬ জন শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পরপরই পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও নির্ধারিত মোবাইল এসএমএস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের ফল সংগ্রহ করতে পারছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন হলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলী।প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়ে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাদের জন্য দিনটি ছিল নতুন কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন স্বপ্নেরও সূচনা।আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা নীলা খাতুন পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাকে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।আয়শা আক্তারও পা দিয়ে লিখে সম্পন্ন করেন স্নাতকোত্তর। হাত না থাকায় মুখ দিয়ে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন তিনি। তাকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।এসময় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল। নিয়োগপত্র প্রদানের পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
মাত্র ১০০ টাকায় গরুর মাংস দিয়ে ভাত বিক্রি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসা ‘ভাইরাল মিজান’কে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাফরুল থানা পুলিশ।রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগ ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আগারগাঁও এলাকায় মিজানের দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টরা সেখানে যান। তখন মিজান তাদের ওপর চড়াও হন।তিনি বলেন, এ সময় সিটি কর্পোরেশনের কর্মী ও পুলিশের সদস্যদেরও আঘাত করেন মিজান। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সবশেষ মামলায় জামিন হওয়ায় তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা।সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। পরে বনানী থানার মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। আজ এই মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।এর আগে মোট ৮ মামলায় বিভিন্ন সময় জামিন পান বিচারপতি খায়রুল হক।সবশেষ গত ৩০ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিনের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানায় খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এই আদেশ দেন।১৬ মে এ মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল।এই মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী–সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোয়াইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হন। শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ, র্যাবসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্র–জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এতে গুরুতর আহত হন খোয়াইব। তাকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে একে একে নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ২০২৬ এর নির্বাচনে প্রাণহানি সহিংসতা অন্য নির্বাচন গুলোর চেয়ে কম হয়েছে সত্য কিন্তু এর কৌশলগত ম্যানিপুলেশন নবরূপ লাভ করেছে। নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কার না আনলে নির্বাচনী সহিংসতা ও অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও অভিনব আকারে বাড়বে।সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইপিডি (ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি) ও ‘অধিকার’ এর যৌথ আয়োজনে স্টেকহোল্ডার ডায়লগে তিনি একথা বলেন।ডায়লগে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, এনসিপি নেত্রী মুনিরা শারমিন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলিম, অধিকারের ডিরেক্টর নাসিরুদ্দিন এলান, তাসকিন ফাহমিনা, ইপিডি’র প্রকল্প পরিচালক অ্যানাসতাসিয়া এস উইবাওয়াসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররা বক্তব্য রাখেন। মজিবুর রহমান মঞ্জু ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, কারা ক্ষমতায় আসবেন এটা যদি নির্বাচনের আগেই ধারণা তৈরি হয়ে যায় তাহলে নির্বাচন কতৃপক্ষ ও মাঠ প্রশাসন কোনভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবেনা। নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত যে যেখানে পেরেছে প্রভাব বিস্তার করেছে বলে তিনি মনে করেন। নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন ও সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন না করলে আগামীতেও যে দলের যেখানে প্রভাব সেখানে ১৫ থেকে ২০ ভাগ শান্তিপূর্ণ ম্যানিপুলেশন প্রভাবশালীদের পক্ষে হবে। ক্যাম্পাসে সরকারী ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাস ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিরোধ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষের চুড়ান্ত পরিণতি অতীতে কখনো ভাল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবেনা। তিনি এ ব্যাপারে সমাধানমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারের মাঝে সরকারি মানবিক সহায়তা হিসেবে জিআর (জেনারেল রিলিফ) নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ লাঘব ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।সোমবার (১০ আগস্ট) বিকাল ৪ টার সময়, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে জিআর (ক্যাশ) ও জিআর (চাল) সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মোঃ বাতেন,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন মো আনিছুর রহমান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা,বাগেরহাট।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ তামান্না ফেরদৌসী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসন কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার পাশাপাশি দুর্যোগকবলিত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।সভাপতির বক্তব্যে রামপাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ তামান্না ফেরদৌসী বলেন, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা সরকারি সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, নদীভাঙনের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি নগদ অর্থ ও চালের সহায়তা তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।আয়োজক সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ঢাকার সহযোগিতায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে এ জিআর সহায়তা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের জি,এম সাইফুল ইসলাম( পি আই ও) বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক খাদ্য ও আর্থিক সংকট মোকাবিলায় জিআর সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই সিরিজ আয়োজন এখন প্রায় অসম্ভবের পথে। বিসিবি কর্মকর্তারা এখনো আশা করছেন সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই দিকে যাচ্ছে না। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ক্রিকবাজ।রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণগত ৫ আগস্ট দিল্লিতে পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলের কয়েকজন সদস্যকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়।৮ আগস্ট বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলো। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিল?’বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, হাসিনার এই সংবাদ সম্মেলনই ভারতের বাংলাদেশ সফরের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে।আগে যেভাবে আশা জেগেছিলএর আগে চলতি বছরের শুরুতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে অনুষ্ঠেয় আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তখন ভারতে মৌলবাদী গোষ্ঠীর বাংলাদেশ বিরোধী সব কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা নেওয়ার পর নতুন করে আশা জেগেছিল যে দুই ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্কের উন্নতি হবে।বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভারতকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সফর হলে বোর্ডের আর্থিক দিক থেকেও বড় লাভ হতো।যা ভাবছে বিসিবিহাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতি যেভাবে এগিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, সেপ্টেম্বরে ভারতকে আতিথেয়তা দেওয়া বাংলাদেশের জন্য এখন দূরের স্বপ্ন, প্রায় অসম্ভবও বলা যায়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে এই বিষয়ে একই মত জানিয়েছেন। শনিবার তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সব ঘটনার পর এই সিরিজ নিয়ে আমি সন্দিহান। আমার মনে হয় না অন্যপক্ষ থেকে (সিরিজ নিয়ে) কোনো সাড়া পাব। সত্যি কথা বলতে, এটি ২৮ আগস্টের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল, আমাদের হাতে আর কতদিন আছে?’তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না (সিরিজটি পরিকল্পনামতো এগোবে)। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু এখন এটি আমাদের সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’তিনি যোগ করেন, যতক্ষণ না আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজ বাতিল ঘোষণা করা হয়, ততক্ষণ তাদের করার আর কিছুই নেই, শুধু আশা করা ছাড়া।
কাঁধখোলা কালো গাউনে নজরকাড়া এক ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করলেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। এর সঙ্গে পুরুষদের নিয়ে ক্যাপশনে দিলেন খোঁচা। ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার দেওয়া এই পোস্টে দখো গেলো গ্ল্যামারাস লুকে হাজির হয়েছেন তিনি। তার পোস্ট করা একগুচ্ছ ছবিতে দেখা যায়- স্নিগ্ধ ও খানিকটা বোল্ড লুকে। টিউব কাটের বডি ফিটেড কালো মেরমেড গাউনে ফুটে উঠেছে ফারিয়ার শার্প লুক। সাজসজ্জায় বেছে নিয়েছেন ডায়মন্ড ও পান্নার মিশেলে তৈরি নেকলেস, মানানসই দুল এবং ব্রেসলেট।ছবিগুলোতে ফারিয়ার অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে আভিজাত্য আর আত্মবিশ্বাসের ছাপ। কখনো জানালার পাশে দাঁড়িয়ে, আবার কখনো বিলাসবহুল সোফায় হেলান দিয়ে ক্যামেরায় পোজ দিয়েছেন তিনি। তবে শুধু ছবিই নয়, ভক্তদের নজর কেড়েছে তার পোস্টের ক্যাপশনটি। ফারিয়া লিখেছেন, ‘বেশিরভাগ পুরুষের চেয়ে হীরাই মেয়েদের মন বেশি বোঝে।’ ছবিগুলো পোস্ট করার পরপরই মন্তব্যের ঘরে অনুরাগী ও নেটিজেনদের ভিড় জমেছে। ফারিয়ার রূপের প্রশংসা করে এক অনুরাগী লিখেছেন, ‘একদম কুইন লুক!’ অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সত্যিই দারুণ লাগছে ফারিয়া আপু!’ অনেকেই আবার এই বোল্ড লুকের প্রশংসা করেছেন মুক্তকণ্ঠে।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ মিঠুন চক্রবর্তী হাতে মারাত্মক আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চোটের গভীরতা বেশি থাকায় জরুরি ভিত্তিতে তার হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাতের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং মিঠুন চক্রবর্তী বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য চিকিৎসকরা তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।আপাতত তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। তবে ঠিক কীভাবে অভিনেতা হাতে চোট পেয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শুটিং সেটে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।প্রিয় ‘মহাগুরু’র অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তার অজস্র ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। তবে তিনি বর্তমানে ভালো আছেন জেনে স্বস্তি মিলেছে সবার।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন করেছে। গত ২৯ জুলাই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। নবগঠিত বোর্ডে নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সাবেক সভাপতি ও চলচ্চিত্র গবেষক আবদুর রহমান। এছাড়া সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা, গীতিকার প্রিন্স মাহমুদ এবং সংগীতশিল্পী দিঠি আনোয়ার।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন অনুযায়ী এই বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব। আর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।এ ছাড়া বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চলচ্চিত্র), আইন ও বিচার বিভাগের একজন প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের একজন প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা শানু।মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও সমন্বিত করতে নতুন করে এই বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।
'কিং' সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। সম্প্রতি বহুল প্রতীক্ষিত এ সিনেমার সম্ভাব্য নতুন লুক সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ছুটি কাটানোর সময় এক ভক্তের ক্যামেরায় ধরা পড়েন কিং খান। এরপর সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা। ভাইরাল হওয়া সেই ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বাদশাহ কালো রঙের হুডি ও ‘VR-46’ লেখা একটি কালো ক্যাপ পরে ছিলেন। মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করলেও ক্যাপের ফাঁক দিয়ে তার ব্লিচ করা চুল দেখা যায়। এ থেকেই নেটিজেনদের ধারণা— পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের ‘কিং’ সিনেমার নতুন লুক আড়াল করতেই এমন সতর্ক ছিলেন শাহরুখ খান।‘কিং’ সিনেমায় শাহরুখ খানকে সম্পূর্ণ ধূসর চুলের ভিন্নধর্মী লুকে দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নির্মাতা বা অভিনেতার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনে শুটিংয়ের ফাঁকে ঘুরতে বের হওয়ার সময় শাহরুখ খানের পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট। সাধারণ পোশাকে থাকলেও ভক্তদের আগ্রহ এড়াতে পারেননি তিনি। কয়েকজন ভক্ত-অনুরাগীর সঙ্গে ছবিও তুলেছেন এ অভিনেতা।এ ছাড়া লন্ডনে শাহরুখ খানের বাড়িও ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, তার বাড়ির সামনে ভিড় করছেন অসংখ্য ভক্ত। অনেকেই সেখানে ছবি ও সেলফি ভিডিও ধারণ করছেন। দৃশ্যটি মুম্বাইয়ে শাহরুখের বাসভবন ‘মান্নাত’-এর সামনে ভক্তদের ভিড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরেছেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।ঢাকার বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি দেশে এসেছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমি সব সময় সবার জন্য দোয়া করি।এর আগে সোমবার সকালে তার দেশে ফেরার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে ইলিয়াস কাঞ্চন আবারও লন্ডনে ফেরত যাবেন। আগামী ১৫ আগস্ট অভিনেতার শারীরিক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।গত বছরের প্রথম দিকে অভিনেতার শরীরে টিউমার ধরা পড়লেও পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ২৬ এপ্রিল ইলিয়াস কাঞ্চনকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে চিকিৎসা শুরু হয়। তিন মাসের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৫ আগস্ট লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে প্রফেসর ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তার ব্রেনে অস্ত্রোপচার করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারের ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক ঘটলো। 'গুলশানের চামেলী' সিনেমার মাধ্যমে তিনি যাত্রা শুরু করছেন ঢালিউডে।১ আগস্ট শনিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।মধুমিতা বলেন, 'আমি এখানকার সবার এতটা ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত। এত এত ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে, এত গুণী মানুষদের নিয়ে আমার অভিষেক হচ্ছে ঢাকাই সিনেমায়। এর চেয়ে ভালো অভিষেক আর হতে পারে না।'তিনি আরও বলেন, 'আমরা যে এনার্জি ও স্পিড নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি, আশা করি সিনেমাটি খুব ভালো হবে। আমাকে এই সিনেমায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই।' মহরতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে এমডি ইকবাল পরিচালিত 'গুলশানের চামেলী'।সিনেমাটির মাধ্যমে প্রথমবার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখা যাবে মধুমিতা সরকারকে, যা নিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। জানা গেছে, সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন এ অভিনেত্রী। এর আগে স্বামী দেবমাল্য চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল সকাল ১০টার দিকে ঢাকায় পৌঁছান মধুমিতা সরকার।‘গুলশানের চামেলী’ নির্মিত হচ্ছে এক যৌনকর্মীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে। নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই দেশের জনপ্রিয় একঝাঁক শিল্পী অভিনয় করবেন। ইতোমধ্যে সিনেমাটির শিল্পী তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ওমর সানী, আমিন খান, আশীষ খন্দকার ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী রোজিনা। গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যাবে আজমেরী হক বাঁধনকে।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম স্কিন ক্যান্সারের হটস্পট, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ২,০০০ মানুষ স্কিন ক্যান্সার এবং মেলানোমায় মারা যায় এবং প্রতি ৩ জন অস্ট্রেলিয়ানের মধ্যে প্রায় ২ জনের জীবনে অন্তত একবার স্কিন ক্যান্সারের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হবে বলে ধারণা করা হয়। এমন একটি দেশে যেখানে সানস্ক্রিন একটি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস, সেখানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া একটি বিতর্ক বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করে।ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘চয়েস’ এর অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ২০টি জনপ্রিয় সানস্ক্রিনের মধ্যে ১৬টিই তাদের লেবেলে উল্লিখিত এসপিএফ (SPF) সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাটি ছিল এসপিএফ ৫০+ (SPF 50+) হিসেবে বাজারজাত করা একটি পণ্যকে ঘিরে, যা পরীক্ষায় প্রায় এসপিএফ ৪ (SPF 4) এর মতো কাজ করেছে বলে জানা যায়। ব্র্যান্ডটি এই ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানালেও পণ্যটি বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়ার থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TGA) একই ধরনের সানস্ক্রিনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফলে কেন এত বড় অমিল দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করে যে আমদানি করা পণ্য ত্বকের যত্নের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। কিন্তু এই সংবাদটি দেখিয়ে দিয়েছিল যে, শুধুমাত্র একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের নামই এখন আর যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোক বা কোনো স্থানীয় কোম্পানির, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি তার লেবেলে লেখা সুরক্ষা সত্যিই প্রদান করে কি না । এই বিষয়টি ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং অতিবেগুনি (UV) রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতা আরও বেশি মানুষকে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলেন, কারণ এটি ত্বককে তৈলাক্ত বা চিটচিটে করে ফেলে, অথবা ব্যবহারের পর ত্বকে হোয়াইট কাস্ট রেখে যায়। এছাড়া, অন্য দেশের জলবায়ুর জন্য তৈরি কোনো ফর্মুলা বাংলাদেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবসময় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। সানস্ক্রিনের আসল কার্যকারিতা তখনই, যখন সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। শুধু ভালো পরীক্ষার ফল থাকলেই হবে না। তাহলে গ্রাহকরা কীভাবে জানবেন যে একটি সানস্ক্রিন সত্যিই কাজ করে কিনা? প্রথম ধাপ হলো লেবেলের অর্থ বোঝা। এসপিএফ (SPF), বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর, ইউভিবি (UVB) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা পরিমাপ করে, যা মূলত সানবার্নের কারণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, একটি এসপিএফ ৫০ (SPF 50) সানস্ক্রিন এই রশ্মিগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশ আটকে দেয়। কিন্তু এসপিএফ হলো সম্পূর্ণ চিত্রের একটি অংশ মাত্র। পিএ (PA) রেটিং ইউভিএ (UVA) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নির্দেশ করে, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং ট্যানিং, পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত। এই দুটি রেটিং একত্রে দেখায় যে একটি সানস্ক্রিন সূর্যের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরনের ক্ষতি থেকে কতটা ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। দ্বিতীয় ধাপটি হলো, এই সংখ্যাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করা। সব এসপিএফ (SPF) পরীক্ষা একই রকম নয়। ইন-ভিভো (In-vivo) পরীক্ষায় পণ্যটি মানব স্বেচ্ছাসেবকদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং নিয়ন্ত্রিত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বক কখন লাল হতে শুরু করে তা পরিমাপ করা হয়; এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো চূড়ান্ত বলে মনে করে এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষণার ফলাফল বের করার ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। ইন-ভিট্রো (In-vitro) পরীক্ষায় একটি স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহার করে পণ্যের একটি পাতলা স্তরের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ ইউভি রশ্মি প্রবেশ করে তা পরিমাপ করা হয়েছিল। এটি দ্রুততর, সাশ্রয়ী এবং শিল্পজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি মানব গবেষণার পরিবর্তে একটি পরীক্ষাগারভিত্তিক বিকল্প পদ্ধতি। কিন্তু মূল বিষয় হলো কোনো পদ্ধতিই চূড়ান্ত নয়, এবং এমনকি একই পণ্যের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, যা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে। ভোক্তাদের উচিত যে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পরীক্ষাগার, পদ্ধতি এবং ফলাফল উল্লেখ করতে ইচ্ছুক সেই পণ্যগুলো কেনা, শুধুমাত্র নামী ব্র্যান্ডের বোতলের উপর একটি ছাপানো লেবেল দেখে না কেনা। বিশ্বব্যাপী সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে বাড়তি নজরদারির পর, কিছু স্থানীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডও এখন বাহ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পণ্যের কার্যকারিতা প্রমাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কিন ক্যাফে এমনই একটি উদাহরণ। এই বাংলাদেশী ব্র্যান্ডটি তাদের ‘স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন এসপিএফ ৫০ পিএ+++ উইথ ভিটামিন সি’ পণ্যটি তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও/আইইসি ১৭০২৫:২০১৭ (ISO/IEC 17025:2017) স্ট্যান্ডার্ডে স্বীকৃত ল্যাবরেটরি ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে জমা দিয়েছে। এএনএ-২৪০৭২৪০০২/১ (ANA-240724002/1) রিপোর্ট রেফারেন্স অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ল্যাবভিত্তিক ইউভি স্পেকট্রোফোটোমেট্রি পদ্ধতি ব্যবহার করে সানস্ক্রিনের সুরক্ষা ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার করা ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, সানস্ক্রিনটির এসপিএফ মান ৫২.৫১ পাওয়া গেছে , যা এর প্যাকেজিংয়ে উল্লিখিত এসপিএফ ৫০-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোম্পানিটির মতে, পরীক্ষায় এসপিএফ ৫০-এর সামান্য বেশি ফল পাওয়া মানে এই নয় যে পণ্যটি দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর। বরং এটি প্রমাণ করে যে প্যাকেজিংয়ে উল্লেখ করা এসপিএফ ৫০-এর দাবিটি সঠিক। কারণ এসপিএফ পরীক্ষায় এ ধরনের সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরে। একটি সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষ তখনই প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করবে, যখন সেটি তাদের দেশের আবহাওয়ায় আরামদায়ক লাগবে। শীতল ও শুষ্ক বাজারের জন্য তৈরি কোনো পণ্যকে মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করে ফর্মুলেশন ও পরীক্ষা করাস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এমন একটি উদ্যোগ, যা পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং বাস্তব জীবনের ব্যবহার, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে। তবে কোন পরীক্ষার ফলকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা একটি পণ্যের প্রতি আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, সেটিই শেষ কথা নয়। একজন ভোক্তা হিসেবে কোন পদ্ধতিতে, কখন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার সবারই রয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আকর্ষণীয় মোড়ক এবং উচ্চ এসপিএফ-এর দাবি এখন আর এককভাবে যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি আমদানি করা হোক বা স্থানীয়, ভোক্তাদের পরীক্ষার প্রমাণ ও স্বচ্ছতা জানার অধিকার রয়েছে, আর ব্র্যান্ডগুলোরও তা নিশ্চিত করা উচিত।
দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।এর আগে, সবশেষ গত ৮ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০১ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫০ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫০ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিদের সবাই বাংলাদেশি।রোববার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, রোববার দুপুর আনুমানিক ২টায় রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন বলে সেখানে কর্মরত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন নিহতদের সবাই বাংলাদেশি। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।এ ঘটনায় রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর শোক জানিয়েছে। এছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় শনাক্তকরণে স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। এর আগে, রোববার রাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক শোকবার্তায় জানায়, সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।তিনি জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসী ভাইদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এই অসীম কষ্ট সহ্য করার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।
বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে গত এক যুগে যে কয়েকটি দেশীয় ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছুটি গ্রুপ। ২০১২ সালে গাজীপুরের সুকুন্দীতে একটি রিসোর্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের পর্যটন, রিসোর্ট পরিচালনা এবং হসপিটালিটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ খাতে একটি শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘ছুটি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রকৃতি, অবকাশ এবং আধুনিক আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আজ ছুটি গ্রুপের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে Chuti Resort Gazipur, Chuti Resort Purbachal, Chuti Resort Pubail, Chuti Forest Eagle Resort (শমশেরনগর)। Chuti Harmony, Chuti Beach Resort, Saltanat Tea Resort, Saltanat Highway Village এবং Anondobari by Chuti-সহ একাধিক প্রকল্প নির্মাণাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ছুটি গ্রুপের পরিচালনায় রয়েছে ১৫১টিরও বেশি রুম ও কটেজ, যেখানে ইতোমধ্যে ২২ লক্ষাধিক অতিথি সেবা গ্রহণ করেছেন। পারিবারিক অবকাশ, করপোরেট রিট্রিট, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, এজিএম-ইজিএম, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক আয়োজনের জন্য ছুটির রিসোর্টগুলো এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে কিডস জোন, সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, সাইক্লিং, হর্স রাইডিং ও ফিশিংসহ বৈচিত্র্যময় বিনোদন সুবিধা অতিথিদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।তবে ছুটি গ্রুপের যাত্রা শুধুমাত্র রিসোর্ট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে রিসোর্ট ইনভেস্টমেন্ট ধারণাকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠন ও নিয়মিত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে একের পর এক উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে Chuti Harmony ঢাকার পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা রিসোর্ট, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইউনিট মালিকানা, ভাড়া থেকে আয় এবং এক্সক্লুসিভ ভিআইপি মেম্বারশিপ সুবিধা পাবেন। Chuti Beach Resort কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক একটি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ প্রকল্প, যা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের চা-বাগানঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠছে Saltanat Tea Resort, যেখানে প্রকৃতি, বিলাসবহুল আতিথেয়তা এবং সুস্থ অবকাশযাপনকে এক সুতোয় গাঁথা হচ্ছে। দেশের মহাসড়কভিত্তিক ভ্রমণ সংস্কৃতিকে আরও আধুনিক ও সেবামুখী করতে বাস্তবায়নাধীন Saltanat Highway Village প্রকল্পে থাকছে নিরাপদ বিশ্রাম, মানসম্মত খাবার, বিনোদন এবং আধুনিক ট্রাভেল সার্ভিসের সমন্বিত ব্যবস্থা।এছাড়া প্রবীণ নাগরিকদের জন্য দেশের অন্যতম বিশেষায়িত সিনিয়র লিভিং কমিউনিটি Anondobari by Chuti নির্মাণাধীন রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিকচর্চা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সমন্বয়ে একটি নতুন জীবনধারার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পাশাপাশি করপোরেট অংশীদারিত্বেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ছুটি গ্রুপ। দেশের ২০০টিরও বেশি স্বনামধন্য ব্যাংক, এনজিও, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (INGO), করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অতিথিদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও এক্সক্লুসিভ অফারের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।মানসম্মত পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও কাজ করছে ছুটি গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে ছুটি গ্রুপ। টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পর্যটন এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।একটি রিসোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বাংলাদেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে একটি বিস্তৃত ইকোসিস্টেমে রূপ নিয়েছে। নতুন গন্তব্য নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাশকেন্দ্র পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী রিসোর্ট বিনিয়োগ মডেলের মাধ্যমে ছুটি গ্রুপ শুধু পর্যটনের অভিজ্ঞতাই বদলে দিচ্ছে না; একই সঙ্গে দেশের পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং টেকসই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাঈলের পরম ত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত উৎসব এটি। জিলহজ মাসে হজ উপলক্ষে সমগ্র পৃথিবী থেকে লাখ লাখ মুসলমান সমবেত হয় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি বিজড়িত মক্কা-মদিনায়।ইসলামে ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ। সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে সমাজে।এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা আলাদা বাণীতে তারা ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তারা।রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রস্তুতি নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।তবে উৎসবের আনন্দের মাঝেও কিছু মানুষের ঈদ কাটবে কষ্টে। রাজধানীর কালশীতে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও ঈদের প্রস্তুতি পুড়ে যাওয়ায় তাদের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। একইভাবে হামে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মানুষ। এদের ঘরেও এবার ঈদ নেই।ঈদের দিন অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের জন্য দোয়া করেন।ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলো যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা, কোরবানির প্রস্তুতি ও পরিবার-স্বজনের মিলনে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সেলাই মেশিনে বসে থাকা হাসিমুখের নারীর ছবি। বর্তমানে এ দেশের প্রায় ৪০ লাখ গার্মেন্টস কর্মীর ৫৩ শতাংশই নারী। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এই উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ে কেবল কারখানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ম্যানেজমেন্ট বা সুপারভাইজার-এর মতোন পদগুলোতে এখনো পুরুষদের সংখ্যাই বেশি। এই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছেন হংকংভিত্তিক শীর্ষ অ্যাপারেল প্রতিষ্ঠান হপ লুনের চিফ পিপল অফিসার ড. সাবরিনা টিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি বলেন, “আমাদের মোট কর্মীদের ৮০ শতাংশই নারী। তবে আমাদের লক্ষ্য, কারখানার অন্তত ৭০ শতাংশ সুপারভাইজার পদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।” এই লক্ষ্য পূরণে গত বছর তিনি চালু করেন #শিক্যান নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ। এর আওতায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পারিবারিক সহায়তায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প এবং কারখানাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে বিদ্যমান ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকের সুবিধাদি এবং সেবার মান বাড়ানো হয়েছে, জোর দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধিতেও। এখানেই শেষ নয়। ‘ওয়ার্কার স্কলারশিপ পাথওয়ে’নামে আরেকটি উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মীরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের পথ খুঁজে নিতে পারছেন। সাবরিনার মতে, শুধু ‘নারী ক্ষমতায়ন’নিয়ে স্লোগান তুললেই হবে না, দরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। তাই হপ লুনের দক্ষতা উন্নয়ন মডেল কাজ করে ‘হেড, হার্ট অ্যান্ড হ্যান্ডস’—এই তিন স্তরে। তাঁর ভাষায়, “পোশাক খাতের কর্মীরা হাতে-কলমে কাজের দক্ষতায় এগিয়ে। এখন প্রয়োজন তাঁদের চিন্তা ও মানসিকতার বিকাশে বিনিয়োগ।” এই লক্ষ্যেই কর্মীদের ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেন। তবে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবরিনা বলেন, অনেক নারী কর্মী এখনো নিজেদের মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। এ সমস্যা কাটাতে হপ লুনে ‘পিপল অ্যান্ড কালচার’(পিএনসি) অভিযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এখানে এইচআর দল ‘গেটকিপারহিসেবে কাজ করে ফলে কর্মীরা নিঃসংকোচে এবং নির্ভয়ে তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারেন। কারখানায় অশোভন আচরণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ বক্স ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ বাড়ায় নারী কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব উদ্যোগকে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে দেখলেও সাবরিনা একে মনে করেন কৌশলগত বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, “কর্মীরা সন্তুষ্ট থাকলে তারা আরও মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ কর্মীদের কাজ ছাড়ার প্রবণতাও কমে যায়।” তিনি আরও মনে করেন, নারী সুপারভাইজারের সংখ্যা বাড়লে কর্মপরিবেশ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সাফল্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তৈরি পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সাবরিনা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু একজন নারী কর্মীকে এগিয়ে দেয় না, বরং একটি পরিবার, এমনকি একটি প্রজন্মের জীবন বদলে দিতে পারে। বৃহত্তর পরিসরে এসব উদ্যোগের সুফল কিংবা কার্যকারিতার উপর আলোকপাত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আপনি যে শুধু একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সহায়তা করছেন তা নয়, বরং তাদের একটি সমৃদ্ধ জীবন গড়তে অবদান রাখতে পারছেন,” সবশেষে, আজীবন শেখার উৎসাহ দিয়ে তিনি বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই, যেকোন জায়গাতেই আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। কেউ আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। শুধুমাত্র নিজের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এই অদম্য এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকলে যেকোনো নারী কারখানার ফ্লোর থেকে শুরু করে একদিন নেতৃত্বের শীর্ষ আসনে পৌঁছাতে পারবে-যা প্রমাণ করবে নিজের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করলে, পরিশ্রম একদিন ঠিকই আপনাকে আরও উন্নত ভবিষ্যতের পথে নিয়ে যাবে।
তরুণ প্রজন্মের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি আজ (১০ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত সি-সিরিজ স্মার্টফোন, সি১০০এক্স উন্মোচন করেছে। ডিভাইসটিতে সুবিশাল ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি, ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং ও রিভার্স চার্জিং ব্যবহার করা হয়েছে। একইসাথে, স্মার্টফোনটিতে ৭ বছরের ব্যটারি হেলথ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা এই প্রাইস সেগমেন্টের ব্যাটারি পারফরম্যান্সে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।রিয়েলমির ল্যাব টেস্ট অনুযায়ী, সারাদিন নিরবচ্ছিন্ন পাওয়ার নিশ্চিত করতে তৈরি রিয়েলমি সি১০০এক্স একবার পূর্ণ চার্জে ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত কল, ২১ ঘণ্টা পর্যন্ত ইউটিউব স্ট্রিমিং, ২৭ ঘণ্টা পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার, ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত ফ্রি ফায়ার গেমপ্লে ও ৮০৯ ঘণ্টা পর্যন্ত স্ট্যান্ডবাই টাইম নিশ্চিত করতে সক্ষম।সি-সিরিজের নতুন এই ডিভাইসটিতে ৬.৮ ইঞ্চি এইচডি+ ডিসপ্লে উইথ ৭২০×১৫৭০ পিক্সেল রেজ্যুলুশন, ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট, ফ্লিকার-ফ্রি ডিসি ডিমিং ও ৯০.৪% স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিনোদনের ক্ষেত্রে স্মুথ ও অনন্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। একইসাথে, ডিভাইসে ৩০০% আলট্রাবুম সাউন্ড ব্যবহার করা হয়েছে; যা গেমিং ও মাল্টিমিডিয়া অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি, পড়াশোনা, কাজ, ভ্রমণ, বিনোদন ও গেমিংয়ের জন্য স্মার্টফোনটিকে আদর্শ সঙ্গী হিসেবে গড়ে তুলবে। দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এতে আর্মরশেল প্রোটেকশন ও আইপি৬৪ ডাস্ট অ্যান্ড ওয়াটার রেজিজট্যান্স রেটিং ব্যবহার করা হয়েছে, যা পানির ঝাপটা ও ভারি বৃষ্টি থেকে ডিভাইসটিকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম হবে। ফটোগ্রাফির জন্য রিয়েলমি সি১০০এক্সে একটি ৫০ মেগাপিক্সেল রেয়ার ক্যামেরা ও ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রতিটি শটে অসাধারণ ডিটেইল ক্যাপচার করতে পারবেন। এই ডিভাইসটিতে সর্বাধুনিক এআই ফিচার ব্যবহার করা হয়েছে। একইসাথে, ডিভাইসে ফ্যান-ফেভারিট ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক ব্যবহারের পাশাপাশি, এতে স্টাইলিশ ও ফ্ল্যাগশিপ ইন্সপায়ার্ড রাউন্ডেড কর্নার ব্যবহার করা হয়েছে।গোল্ডেন কোস্ট ও ডিপব্লু টাইডস, দুইটি অনন্য রঙে ও দুইটি আলাদা স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে রিয়েলমি সি১০০এক্স পাওয়া যাচ্ছে। ৪ জিবি + ১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টের মূল্য ২১,৯৯৯ টাকা মাত্র ও ৬ জিবি + ১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টের মূল্য ২৩,৯৯৯ টাকা মাত্র। আরও স্মুথ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে, ৪ জিবি + ১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টে অতিরিক্ত ৮ জিবি ডায়নামিক র্যাম ও ৬ জিবি + ১২৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টে অতিরিক্ত ১২ জিবি ডায়নামিক র্যাম ব্যবহার করা হয়েছে।এছাড়াও, বর্তমানে দারাজে রিয়েলমির একটি আকর্ষণীয় স্টুডেন্ট ডিসকাউন্ট ক্যাম্পেইন চলছে। দেশজুড়ে স্বীকৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দারাজ থেকে রিয়েলমি সি১০০এক্স কেনার মাধ্যমে ২,০০০ টাকা ডিসকাউন্ট উপভোগ করতে পারবেন। এই অফার পেতে, শিক্ষার্থীদের একটি বৈধ স্টুডেন্ট আইডি ও সেলফি আপলোড, একটি সচল বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফর্মটি পূরণ করতে হবে। প্রত্যেক উপযুক্ত শিক্ষার্থী এই ক্যাম্পেইনের আওতায় একটি ডিসকাউন্ট কুপন পাবেন। কুপনটি ১০-১৭ আগস্ট পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নিম্নমানের ও ভুয়া ভিডিও কনটেন্ট, যা ‘এআই স্লপ’ নামে পরিচিত, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে। এ ধরনের কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, লিংকডইন এবং সাবস্ট্যাক ইতোমধ্যে এআই-নির্ভর ভুয়া লেখা, ছবি ও ভিডিও শনাক্ত ও দমনে কঠোর নীতিমালা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ জানিয়েছে, তারা তাদের স্পটলাইট ফিডে সম্পূর্ণরূপে এআই-উৎপাদিত ভিডিও রেকমেন্ড করা বন্ধ করবে। তারা মানুষের তৈরি করা আসল কনটেন্ট প্রাধান্য দেবে। একইভাবে, তারা পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন এআই দিয়ে তৈরি মন্তব্য শনাক্ত করে প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া কমেন্ট ব্লক করে দিচ্ছে।এমনকি কোনো পোস্ট এআই লেখা মনে হলে ইউজারদের রিপোর্ট করার সুযোগও যুক্ত করেছে তারা। ইউটিউব তাদের মনিটাইজেশন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে জেনেরিক ও বারবার তৈরি করা নিম্নমানের এআই ভিডিওর ক্ষেত্রে আয় করার সুযোগ বন্ধ করেছে। অন্যদিকে, সাবস্ট্যাক নিয়ে এসেছে এআই লেখা শনাক্তকারী বিশেষ সুবিধা।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করছে না। কনটেন্ট সম্পাদনা বা মানোন্নয়নের মতো কাজে এআই ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। বরং মানবসৃষ্ট কনটেন্টের স্বকীয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নিম্নমানের এআই-তৈরি লেখা ও ভিডিওর অতিরিক্ত বিস্তার ঠেকাতে কনটেন্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণেই জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।সূত্র: বিবিসি